লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পর থেকেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের শাসক দলের মধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এলাকা দখলের লড়াই। কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের পশ্চিমবঙ্গে তাদের আশাতিরিক্ত ফলাফল, অপরদিকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফলে তাদের সংগঠনের মাথা অনেকটাই নামিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজ্য তৃণমূল।আর সেই কারণেই রাজ্যের শাসক দল তাদের এই ফলাফলকে মেনে নিতে না পেরে আক্রমনের পথে নামছে প্রতিনিয়ত। আর তাদেরকে কোণঠাসা করতে প্রতিরোধের চেহারা নিচ্ছে বিজেপির কর্মী–সমর্থকেরা। ফলে শুরু হচ্ছে সংঘর্ষ, বিপাকে পড়ছে সাধারণ মানুষ। আর পুলিশ প্রশাসনকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করতে।
সারা রাজ্য জুড়ে এলাকা দখলে লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব জেরে ও প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ ও অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও তাদের রুজি রোজগার। বিজেপির মিছিলে বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠেছে চন্দ্রকোনার বিভিন্ন এলাকা। জখম হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তৃণমূলের বিধায়ক কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় গ্রামবাসীরা খেজুরিতে। উত্তর দিনাজপুরে গুলি চালানোর খবরও পাওয়া যায়। উত্তর ২৪ পরগনা আমডাঙা তে বিজেপির কর্মী–সমর্থকেরা থানা ঘেরাও করেন, জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। ফলে নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। এখানেও নিষ্ক্রিয় রাজ্য সরকারের পুলিশ। একইভাবে বীরভূমে ও দেখা গেছে এই সংঘর্ষের চেহারা। বীরভূমের
মহম্মদবাজারের পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে ঘটে ভাংচুরের ঘটনা। যদিও জেলা বিজেপি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে বিজেপি তৃণমূলের সন্ত্রাস একের পর এক বেড়েই চলেছে তাতে আতঙ্কিত রাজ্যের সাধারণ মানুষ। শুধুমাত্র রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলেই নয়, কলকাতার বিভিন্ন এলাকাতেও এই সন্ত্রাস কে ঘিরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে নেমেছে বিজেপি। আবার এদিকে বিজেপিকেই দেখা গেল কাকিনাড়াতে সিপিআইএমের পার্টি অফিস দখল করতে। যদিও পরের দিনে তা আবার সিপিআইএমের কাছেই ফিরে আসে।
এমত অবস্থায় রাজ্যের পরিস্থিতি যে কোন পর্যায়ে চলছে তা নিয়ে চিন্তায় রাজ্যের বিশেষজ্ঞমহল। কিন্তু রাজ্যের বিজেপি ও শাসকদলের এহেন টানাপোড়ন অবস্থার মধ্যে পড়ে সাধারণ মানুষকেই আতঙ্কে এবং ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও গ্রাম বাংলা তাদের কাছে এখন একটাই প্রশ্ন ,কাকে করবে ভরসা, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, নাকি রাজ্যের তৃণমূল সরকার ? কারণ একজন কে কাজ পাচ্ছেন না, আর অপরজনকে কাছে পেয়েও অভাববোধ করছেন। ফলে বিপাকে রাজ্যের সাধারণ মানুষ।