জঙ্গলমহলে উন্নয়নের জোয়ার বলে পাতা জোড়া বিজ্ঞাপন দেয় তাঁর সরকার, অথচ সেই লালগড়েই অপুষ্টিতে সাত জনের মৃত্যুর পর অস্বস্তিতে মমতা সরকার। গত পনেরো দিনে ঝাড়গ্রাম জেলার জঙ্গলখাস গ্রামে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে, এঁরা প্রত্যেকেই শবর সম্প্রদায়ের।
স্থানীয় সূত্র অনুসারে যারা মারা গেছেন, তারা প্রত্যেকেই অসুস্থ ছিলেন, কয়েকজন যক্ষায় ভুগছিলেন। মূলত অপুষ্টি ও অনাহার জনিত রোগের চিকিৎসা চলছিল স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কিন্তু নিয়মিত বিনামূল্যের ওষুধ বা চিকিৎসা হয়েছে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশায় এলাকার মানুষ। মৃতের পরিবার থেকে সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন চাওয়া হয়েছে। কিন্তু যে রাজ্যে দূর্গা পুজো পালনে সরকার পুজো কমিটিগুলোকে কোটি টাকার অনুদান মিলছে সেখানে অপুষ্টিতে মৃত্যু প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে সরকারকে।
জঙ্গলমহল সহ অনুন্নত এলাকায় ২ টাকা কেজিতে চাল দেয় রাজ্য। কিন্তু স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, চাল থেকে শুরু করে ইন্দিরা আবাসের টাকা – সবই চলে যায় এলাকার শাসক দলের নেতাদের পকেটে। যে গ্রামের ঘটনা সেখানে ৬০ থেকে ৭০টি পরিবারের বাস। অধিকাংশই শবর সম্প্রদায়ের। ডালপালা ও কাঠ বেচার টাকাতেই মূলত তাদের সংসার চলে। ৫ নভেম্বর, যখন সারা রাজ্যে আলোর উৎসব চলছে, তখনই মৃত্যু মিছিল শুরু হয়। মৃতদেহ গ্রামেই সৎকার করেন পরিজনরা।
রাতেই বিডিও যান ঘটনাস্থলে। মঙ্গলবার জেলাশাসক আয়েশা রানি গ্রামে গিয়ে মৃতের পরিবারদের সঙ্গে দেখা করেন । গ্রামবাসী ও বিরোধীদের অভিযোগ সরকার অপুষ্টিতে আড়াল করতে মদ খাওয়ার তত্ত্ব।
লোধা শবর উপজাতি পশ্চিম মেদিনীপুর-ওড়িশায় বাস করেন। এখন শিক্ষার হার ৩৪% মতো।