পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন যেন হীরক রাজ্যের মতো

Mamata Banerjee
TMC chief and West Bengal Chief Minister Mamata Banerjee (PC: Wikimedia Commons/Biswarup Ganguly)

সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ চলচ্চিত্রটি প্রায় সকলেরই দেখা। এই বাংলা চলচ্চিত্রে যে বিষয়টি বিশেষভাবে দেখানো হয়েছে তা হল হীরকের রাজা তার নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য যা খুশি তাই করার স্বৈরাচারী মনোভাব ব্যক্ত করতে প্রজাদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জোর জুলুম চালিয়ে যেতেন। তার এই ধরনের স্বৈরাচারী মনোভাব ও চিন্তাধারার প্রতিবাদ করার জন্য সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ওখানে গুরুমশায়ের চরিত্রে পাঠশালা চালাতেন। তাকে বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় রাজাকে।  কারন ‘যে বেশি জানে, সে কম মানে’ অর্থাৎ রাজ্যবাসীকে বোকা থাকতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং পাঠশালা বন্ধ করে দেয়ার আদেশ দেন রাজামশাই।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমোদিত সকল স্কুলগুলিতে দুই মাসের জন্য গ্রীষ্মকালীন যে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে তাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে বিতর্ক। প্রথম দিকে বলা হয়েছিল ৩রা মে থেকে ৩০ শে জুন পর্যন্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল গুলিতে গ্রীষ্মের ছুটি থাকবে। অতিরিক্ত যে ছুটির ঘোষণা করা হয়েছিল তা শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের, শিক্ষকদের জন্য নয়। পরবর্তী ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছুটিও শিক্ষকদের জন্য নির্দেশিকায় সংযোজন করা হয়। ফলে দুই মাসের ছুটি ভোগ করবে শিক্ষক-ছাত্র উভয়ই।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এহেন সিদ্ধান্তে খুশি নয় অনেকেই। রাজ্য সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্তে প্রথমেই বিতর্ক তুলেছেন নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি এছাড়াও অন্যান্য শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকেও এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারছেন না। কারণ সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের আগে থেকেই পড়াশোনার অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল গুলিকে নির্বাচনের কাজে লাগানো হয়েছে। তার পরেও গ্রীষ্মের ছুটি যে এই দুই মাস কেন দেওয়া হলো তা নিয়ে চিন্তিত অনেকেই।

এই ছুটি দেওয়া কে  কেন্দ্র করে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি শুরু হয়েছে, পাশাপাশি সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ হীরক রাজার যে ভূমিকা তার সঙ্গে বর্তমান রাজ্য সরকারের শাসকদলের ভূমিকার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই তা তুলে ধরছে অনেকেই। যদিও বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার হাল পশ্চিমবঙ্গে খুবই শোচনীয়। কারণ বহু স্কুলে বিগত বছরগুলিতে যে শিক্ষক নিয়োেগর পদ্ধতি রাজ্য সরকার দেখিয়েছেন, তাতে অনেকেই হতবাক। কারণ পরীক্ষা নয়, রাজনৈতিকভাবে, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে শিক্ষক। আর সেই কারণেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অঙ্গুলিহেলনে চলছে রাজ্যের সমস্ত স্কুলগুলি। তাই তিনি যা বলবেন, তাই সবাইকে মেনে নিতে বাধ্য করেন।

পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দপ্তরের এই ধরনের সিদ্ধান্ত কে মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। শিলিগুড়ি বয়েজ হাই স্কুলে দেখা গেল তারই প্রতিফলন। হঠাৎ করে, না জানিয়ে, সাদা কাগজে ছুটির ঘোষণা করে স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে ছাত্র ও অভিভাবক প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করে।

অভিভাবকদের দাবি ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষার সময় হঠাৎ করে স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছে না কেউ। তারা জানান ছুটি যদি দিতেই হয়, তাহলে শিক্ষা দপ্তর কে সবকিছু জেনে শুনে ছুটি দেওয়া উচিত। পরীক্ষার দিন নির্ধারণ থাকলেও কেন ছুটি দেওয়া হলো এবং এই ছুটিতে তাদের ছেলেমেয়েদের যে কতটা ক্ষতি হবে তা ভেবে বিক্ষোভের পথে নামে ছাত্র- অভিভাবকরা।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষা দপ্তরের নির্বাচনের কালে, এই ধরনের সিদ্ধান্তে অনেকেই চিন্তিত। এই ধরনের তুঘলকী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন যে ভোট বাক্সে পড়তে পারে তা অনেকেই মনে করছেন। এখন দেখার, আর কি কি সিদ্ধান্ত বদলের পথে এগিয়ে চলে বর্তমান শাসক দল।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+