নির্বাচনে শাসক দলের সহযোগী রাজ্য পুলিশ নয়, কেন্দ্র বাহিনী কাম্য

Border Security Force
Representative image (Credit: Twitter/@BSF_India)

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রথম থেকেই নিরাপত্তার ব্যাপারে সজাগ হতে শুরু করেছিলেন নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত ভোট কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, জাতে তারা নির্ভয়ে ও অবাধে নিজের পছন্দমত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে।

বর্তমান শাসক দলের গুণ্ডাবাহিনীর বোম এর আওয়াজ ও বন্দুকের গুলির শব্দে মানুষ আজ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পঞ্চায়েত, বিধানসভা ও পৌর নির্বাচনগুলিতে পুলিশ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে, যেভাবে গুন্ডা বাহিনীর সহযোগিতায় একের পর এক নির্বাচনী বৈতরণী পার করেছেন, তাতে বর্তমানে খোবের দাবানল সৃষ্টি হয়েছে গোটা রাজ্য জুড়ে। তাই বামফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগ করেন।

রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনের আগে ৫-ই এপ্রিল নির্বাচন প্রক্রিয়াতে, কোন রকম অভিযোগ না আসে তার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা পুলিশ কমিশনার, বিধান নগর পুলিশ কমিশনার, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ সুপার, তারপর প্রথম দফার নির্বাচনের আগে কোচবিহার পুলিশ সুপারকে অপসারণ করেন নির্বাচন কমিশন। এছাড়াও তৃতীয় দফা নির্বাচনের তিন দিন আগে একই অভিযোগে অপসারণ করা হয় মালদার এস পি কে। যদিও মালদা জেলা বামফ্রন্টের তরফ থেকে এই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ মালদার পুলিশের পাশাপাশি জেলাশাসকের বিরুদ্ধে আনা হয়।

নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক বলেন যে ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন জায়গায় চলে এসেছে, যা ১৫ বছর আগে বিহারে ছিল। পাশাপাশি নিরাপত্তার ব্যাপারে কথা উঠলে তিনি জানান কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন তৃতীয় দফার নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের জন্য যে পরিমাণ ফোর্স পাঠাচ্ছে তাতে ৯২% বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া সম্ভব।

পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আজ রাজ্য পুলিশের উপর বিশ্বাস হারিয়েছেন। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভরসাই এখন সবার কাছে কাম্য। বিগত দুই দফা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে পাওয়া অভিযোগের পর তৃতীয় দফার নির্বাচনে বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তৃতীয় দফার নির্বাচনে রাজ্যের যে পাঁচটি আসনে ভোট হবে তাতে ৯২ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে আধাসামরিক বাহিনী থাকছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক অজয় ডি নায়েক।

অন্যদিকে বামপন্থীদের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের সংগ্রামী মনোভাব ডোমকল, ইসলামপুর, মুর্শিদাবাদের লালবাগ, জঙ্গিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায়। প্রতিরোধের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার বামপন্থীদের চাপে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে রাজ্য পুলিশ। যেভাবে বামপন্থী সংগঠন উঠে পড়ে লেগেছে তাতে বোঝা যাচ্ছে তৃতীয় দফার নির্বাচনের যে সাহস ও উদ্যম নিয়ে নিজের ভোট নিজে দেওয়ার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে এগিয়ে চলেছে তাতে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বর্তমান শাসক দলের কর্মী-সমর্থকরা।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+