পশ্চিম বাংলা: রাজ্যে তৃতীয় দফা নির্বাচনে লাগলো রক্তের দাগ

Trinamool congress
Representational image

লোকসভা নির্বাচনের তৃতীয় দফায় যে হিংসার পরিবেশ এখনও বর্তমান তার নিদর্শন দিল মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্র। এদিন মোট পাঁচটি লোকসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, কমবেশি সব জায়গাতেই বেশ কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও প্রথম ও দ্বিতীয় দফা ভোট যেটি ঘটেনি তৃতীয় দফা নির্বাচনে তা ঘটতে দেখা গেল। আর সেটি হল মৃত্যুর খবর।

আগের দুই দফা নির্বাচনে যে পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল তার থেকে বেশি পরিমাণ তৃতীয় দফার নির্বাচনে নিযুক্ত করেছিলেন নির্বাচন কমিশন। তাদের মতামত অনুযায়ী ৯২% কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা থাকবে বুথ গুলিতে। যেহেতু এই ৫টি লোকসভা কেন্দ্রের বেশিরভাগ বুথই  স্পর্শ কাতর তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বুথ কেন্দ্রগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও তার বাইরে না থাকার সুযোগ নিয়ে হিংসা ও সন্ত্রাসের পথ অবলম্বন করল মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ভগবানগোলা বিধানসভা এলাকার তৃণমূল দুষ্কৃতীরা।

বিগত নির্বাচনগুলোতে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে, একের পর এক বুথ দখল ও ছাপ্পা ভোটের মধ্যে দিয়ে, দিনের পর দিন এগিয়ে চলেছে রাজ্যের শাসক দল। তাদের এই পুরনো অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসেছে শাসকদলের এ ধরনের কর্মসূচিকে প্রতিরোধ করতে। মুর্শিদাবাদ জেলার দুটি লোকসভা কেন্দ্রে যেভাবে ভোটাধিকার লুটপাট এর ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে, পাশাপাশি তার প্রতিরোধেরও নজির মিলল।
 এদিন মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের ভগবানগোলা বিধানসভা এলাকার তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে নিহত হন ৫২ বছর বয়সী আবদুল কালাম টিয়ারুল শেখ। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয় ছেলে মেহেবুব শেখ। বুথ থেকে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে নিহত হন এই কংগ্রেস কর্মী।তৃতীয় দফা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোট ঠেকাতে মরিয়া হয়েই নেমেছিলেন এদিন। বহু এলাকাতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের প্রতিরোধ করে ভোট দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। যদিও তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোটের দুর্নীতির অভিযোগে নির্বিকার ছিলেন জেলা প্রশাসন। এছাড়াও সিপিআইএম ও বিরোধীদের এজেন্টদেরকে মেরে বের করে দেওয়া হয় বুথ থেকে। তারও প্রতিরোধের মুখে পড়ে শাসক দলের কর্মীরা। মুর্শিদাবাদ জেলার দুটি লোকসভা কেন্দ্রে শাসক দলের হয়ে ভোটের কর্মকাণ্ডে রাজ্য পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা চোখে পড়ে।
মুর্শিদাবাদের লালবাগের হাসানপুরে দুই সিপিআইএম কর্মীী কে মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। তার পরে হাসানপুরের বুথ দখল করে তৃণমূলের লোকজন। জলঙ্গী, রাজাপুর, খয়রামারি, ফরিদপুর প্রভৃতি জায়গায় পুলিশি সহযোগীতায় তৃণমূলীরা বুথ দখল করে।
এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল সমর্থিত দুষ্কৃতীরা দফায় দফায় অশান্তি ছড়ায়। পরিস্থিতি পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও নির্বিকার ভূমিকা পালন করেন তারা। কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও গ্রামে তৃণমূল সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন সাধারণ মানুষ।
তৃতীয় দফার নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের যেসব বুথে ভোট লুটে্র চেষ্টা চালিয়েছে শাসকদল, সেগুলিতে পুনর্নির্বাচনের দাবি করেছেন সিপিআই(এম)। এই নির্বাচনের পরেও বিশেষ পর্যবেক্ষকের বক্তব্য “তৃতীয় দফার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ”— এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন জেলা বামফ্রন্ট। একইসঙ্গে তৃতীয় দফার এই প্রথম খুনের ঘটনায় প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় যুব কংগ্রেস। অন্যদিকে ১০০% কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি জানায় ভোটকর্মী ঐক্যমঞ্চ।
 বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি, ঝামেলা, মারামারি থাকা সত্ত্বেও মানুষ প্রতিবাদ করেছেন এবং দলে দলে ঘর থেকে বেরিয়েছেন। তাদের নিজের ভোট নিজে দিতে চেষ্টা করেছেন। মোট পাঁচটি লোকসভা কেন্দ্রে এদিন কমবেশি একই চিত্র দেখা গিয়েছে। সব জায়গাতেই— মালদা উত্তর, মালদা দক্ষিণ, বালুরঘাট, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে এদিন জানা যায়।
अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+