কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও লোক দেখানো নির্বাচন পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে অশান্তি ও সংঘর্ষের রেশ ধরেই শেষ হল রাজ্যে সপ্তম তথা শেষ দফার নির্বাচন। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত, রাজ্যের শাসক দল ও তাকে পাল্লা দিতে বিজেপি সংগঠন, একের পর এক দুর্নীতি ও অবৈধ পদ্ধতিতে রাজ্যের লোকসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করার লক্ষ্যে, সমস্ত রকম অরাজনৈতিক ব্যবস্থা নিতে পিছপা হয়নি।
শেষ দফার নির্বাচনে হিংসা ও সংঘর্ষের এক বৃহৎ আকার দেখা দিল রাজ্যের বুকে। কোনরকম মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও, সপ্তম দফায় যে নয়টি লোকসভা কেন্দ্রে এদিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল তাতে বেশিরভাগ জায়গাতেই দেখা গেল হিংসা ও সংঘর্ষের চেহারা।
কলকাতা ও তার সংলগ্ন এলাকাতে একের পর এক অরাজনৈতিক ঘটনা ঘটতে দেখা গেল সারাদিন ধরে। বুথ জাম, ছাপ্পা, ভোটদানে বাধা, দলীয় এজেন্টদের বুথে বসতে না দেওয়া ও তাদের মারধর করে বার করে দেওয়া, সব মিলিয়ে সপ্তম দফা নির্বাচনে কলকাতা ও তার আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল হিংসার ছবি।
দফায় দফায় বোমাবাজি সংঘর্ষ লেগেছিল সারাদিন ধরে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। মথুরাপুরের রায়দিঘিতে প্রচুর পরিমাণে বোমাবাজির খবর পাওয়া যায়। বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রের দেগঙ্গা গোবিন্দপুরে বিজেপি কর্মীদের ঘিরে মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। বেলগাছিয়াতে সিপিআইএম এজেন্টদের বুথে বসতে বাধা দেওয়া হয় এবং তাদেরকে ভয় দেখানো হয়। উত্তর কলকাতার গুরুদাস পল্লীতে সিপিআইএমের উপর হামলা চালায় শাসক দলের কর্মীরা। তাদেরকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় ভাঙ্গরে।
পাশাপাশি এদিন চার কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে ঘিরেও হিংসা ও সংঘর্ষের চেহারা দেখা গেল ভাটপাড়া, কাকিনাড়া সংলগ্ন এলাকাতে। এদিন কাঁটাপুকুর এলাকাতে স্থানীয় তৃণমূল নেতা মদন মিত্র বিভিন্ন বুথে বুথে ঘুরে ভোট প্রক্রিয়া দেখতে শুরু করার পরেই একটার পর একটা সংঘর্ষ ও বোমাবাজি শুরু হয় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছু জায়গায় লাঠিচার্জ করেন। বেশ কিছু জায়গায় সিপিআইএম ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের, শাসক দলের কর্মী-সমর্থকদের দ্বারা অত্যাচারে আহত হওয়ার ঘটনা শোনা যায়। আহত হয় সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরাও।
এই সমস্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনার জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন, পাশাপাশি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন নির্বাচন কমিশন। যদিও পূর্ববর্তী ছয় দফা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা দেখে সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ও পলিটব্যুরো সদস্য হান্নান মোল্লা শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরার সঙ্গে দেখা করে সপ্তম দফা নির্বাচন যাতে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয় তার জন্য জানালেও শেষমেশ দেখা গেল একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সপ্তম তথা শেষ দফার নির্বাচনে, কমিশন কোনরকম আশানুরূপ ফল দিতে পারল না। এমনটাই দাবি করছেন রাজ্য তথা জেলা বামফ্রন্ট।