জমি আন্দোলন করেই তাঁর ক্ষমতায় আসা। নিজেকে কৃষক দরদী প্রমান করার সামান্য সুযোগও হাতছাড়া করেননা তিনি। চিঠি লিখে চাষিদের কল্যানে আট দফা পরামর্শ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে কৃষি ঋণ মকুব থেকে রেগা – কৃষক প্রেম ছত্রে ছত্রে।
কিন্তু তাঁর নিজের রাজ্যে কৃষকের হাল হকিকত কেমন?
পরামর্শ ১ – ন্যুনতম ২ লক্ষ টাকা কৃষি ঋণ
পশ্চিমবঙ্গে কিষান ক্রেডিট কার্ডে চাষিরা গড়ে ঋণ পেয়েছেন ৪১,৭৮২ টাকা। এক-চতুর্থাংশ কৃষকের কাছে এখনও পৌঁছয়নি কিষান ক্রেডিট কার্ড।
পরামর্শ ২- ১০০ র বদলে ২০০ দিনের কাজের বন্দোবস্ত করুক রেগা
চলতি বছরে ১০০ দিনের প্রকল্পে গড় কাজ ২৬ দিন। রাজ্যের সবথেকে পিছিয়ে পড়া অঞ্চল জঙ্গলমহলে সেই গড় ২০ দিন পেরোয়নি। গতবছর রেয়াগায় কাজ চেয়েও পায়নি ৪ লক্ষ পরিবার।
পরামর্শ ৩ – কৃষি ঋণ মকুব
কৃষি ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে সব থেকে বড় দাবি। কিসান লং মার্চের পর কৃষি ঋণ নিয়ে সরব প্রায় সব রাজনৈতিক দল। অদ্ভুত হলেও চিঠিতে মহাজনি ঋণ নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাস্তবে পশ্চিমবঙ্গে ক্রেডিট -ডিপোজিট ( রিন-সঞ্চয়) অনুপাত ৬৫%, বড় রাজ্যগুলর মধ্যে নিচেরদিকে। প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ না পেয়ে মহাজনের থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। ফলস্বরুপ ঋণের বোঝায় ধুঁকছেন ৭৫% ছোট চাষি।
পরামর্শ ৪ – ফসলের ন্যূনতম সহায়কমূল্য নিশ্চিত করা
দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গে কৃষকের সঙ্গে বাজারের যোগাযোগকারীর ভূমিকা নিয়ে এসেছে ছোট ব্যাবসায়ীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসে সরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে ধান কেনা বাধ্য করেছেন, সেইসঙ্গে নিষিদ্ধ ছোট ব্যাবসায়ীদের হস্তক্ষেপ। আপাত ভাবে মনে হতে পারে এতে চাষির ভালো। বাস্তব হল সরকারি সংস্থা আর্থিক ভাবে উতপাদনের সিকি ভাব কিনে উঠতে পারেনি। চালকলগুলো সরকারের সিদ্ধান্তে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ন্যুনতম মূল্যে ধান কেনেন। শাসক দলের নেতারা তাঁদের পকেটে। ফলে চেক বাউন্স করলেও সামান্য আঁচ লাগেনি তাঁদের গায়ে। শুধু কপাল পুড়েছে চাষির। প্রায় ২০০০ আলু চাষি আত্মহত্যা করেছেন ঋণের দায়ে। পুলিশ তাকে কৃষক আত্মহত্যা হিসেবেই দেখায়নি। ফলত এনসিআরবির পশ্চিমবঙ্গে কৃষক আত্মহত্যার সংখ্যা শুন্য।