জেলায় এসে অনুব্রতকে অক্সিজেন দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Mamata Banerjee
West Bengal chief minister Mamata Banerjee (Photo: Wikimedia Commons)

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফা হবে ২৯ শে এপ্রিল। আর এই চতুর্থ দফা নির্বাচনে, রাজ্যের যে ৮টি কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তার মধ্যে বোলপুর ও বীরভূম লোকসভা কেন্দ্র দুটির দিকে তাকিয়ে আছে রাজ্যের মানুষ। কারণ একটাই অনুব্রত মণ্ডল। যে অনুব্রত মণ্ডল একের পর এক নির্বাচনে, সে পঞ্চায়েত হোক বা বিধানসভা নির্বাচন, তার মহিমা দেখাতে খামতি রাখেননা। হুমকি দেওয়া থেকে শুরু করে বুথ দখল ও নির্বাচনের আগের দিন রাতে ভোট কেনা। যেভাবেই হোক নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হবে, সেই রকম পন্থা অবলম্বন করতে পিছপা হননি এই বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। কবি শঙ্খ ঘোষের ভাষায় বীরভূমের বুকে উন্নয়নের খড়গ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন এই বিতর্কিত খলনায়ক।

তিনি কেন এগুলি করেন, কোথা থেকেই বা এগুলি করার সম্মতি পান, আর সকলের জানা সত্ত্বেও প্রতিবারই কেন তিনি এইসব বিষয়ে ছাড় পেয়ে যান, এর সবকিছুই বিরোধী দলগুলি সহ সাধারন মানুষ সকলের কাছেই জানা। তার কারণ অনুব্রত মণ্ডলের মাথায় রয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত।

আগেই বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওর মাথায় অক্সিজেন কম যায়’ তাই এই ধরনের কথা বলে ফেলে। এদিন বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে আবারো তাকে অক্সিজেনের যোগান দিয়ে যান। মানে তুমি তোমার মহিমা দেখিয়ে যাও, আমি তোমার সঙ্গে আছি। শেষ মুহূর্তের প্রচারে এসে বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল কে বিরোধীদের মোকাবিলা করতে যে ধরনের ছাড়পত্র মুখ্যমন্ত্রী দিয়ে গেলেন, তাতে আগামী দিনে কি হতে পারে তার আশায় কিছুটা হলেও চিন্তিত রাজ্যবাসী।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়, এবারের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূম ও বোলপুর কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা অনুব্রত মণ্ডল কে যা খুশি তাই করার ছাড়পত্র দিলেও পুরোপুরি হাত গুটিয়ে বসে নেই বিরোধী দলগুলি। বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বীরভূম জেলা পরিষদের ৪২টি আসনের মধ্যে ৪১টি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দখল করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস।

বিরোধীদের অভিযোগ প্রার্থীদের ভয় দেখিয়ে, রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে এই বলে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে বাধা সৃষ্টি করে তৃণমূলের সন্ত্রাস বাহিনী। এছাড়াও জেলা সভাপতির বিতর্কিত মন্তব্য, ঢাকের চরাম চরাম, গুড় বাতাসা, পাঁচন ও নকুলদানা প্রভৃতির মধ্যে দিয়ে যেভাবে বিরোধী সংগঠনগুলিকে ভয় দেখিয়ে এসেছে। এবার তার মোকাবিলায় নামতে শুরু করেছে বিরোধী সংগঠনগুলি।

বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পূর্ব বর্ধমানের তিনটি বিধানসভায় রয়েছে আউসগ্রাম, মঙ্গলকোট ও কেতুগ্রাম। বীরভূম লাগোয়া বর্ধমানের এই তিনটি বিধানসভার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে। আর তারপরেই শুরু হয়েছে সন্ত্রাস। তিনি আসার পর থেকেই এই তিনটি বিধানসভা থেকে লাল ঝান্ডা কে মুছে ফেলতে সমস্ত রকম সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে শাসকদল। একের পর এক সি পি আই এম কর্মীদের মারধর, মিথ্যা মামলায় অভিযোগ, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া। সব রকমের চেষ্টায় পুলিশি সহায়তা করে যাচ্ছে শাসক দলের কর্মীরা। কিন্তু এবারের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের এই সন্ত্রাস রুখতে তৈরি হয়েছে লাল ঝাণ্ডার নীচে দাঁড়ানো লোকজন।

পুলিশি সন্ত্রাসের কবলে যারা এতদিন পড়েছেন তারা এবার বিক্ষোভে উঠে পড়ে লেগেছেন। এতদিন যে এলাকায় সিপিআইএমের লাল ঝাণ্ডার কোন জায়গা ছিল না, সেখানে ধাপে ধাপে চলছে মিটিং মিছিল জমায়েত। আদিবাসী এলাকাগুলিতে দেখা যাচ্ছে অন্য রকম পরিস্থিতি। তারা বেশকিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে এতটাই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে, যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য তারা আবার লাল ঝাণ্ডার নীচে এসে ভর্সার আলো দেখছে। তাদের বক্তব্য যদি তৃণমূল সন্ত্রাস বাহিনীরা বহিরাগতদের নিয়ে বাইকে চড়ে তাদের আক্রমণ করতে আসে বা ভয় দেখাতে আসে, তাহলে তারাও তৈরি আছে তাদের তীর-ধনুক নিয়ে। মানে এক কথায় বলতে গেলে এবারের লোকসভা নির্বাচনে সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বামপন্থী সংগঠন এর সমর্থক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+