ডোমকলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ লাল ঝাণ্ডার নীচে দাঁড়িয়ে মিছিল করলেন

CPIM protest
Representative picture (Photo: Twitter/@cpimspeak)

ধাপে ধাপে এগিয়ে চলল সপ্তোদশ লোকসভা নির্বাচনের নির্বাচনী কর্মসূচি। প্রথম, দ্বিতীয় পেরিয়ে এবার তৃতীয় দফা নির্বাচনের নির্বাচনী কর্মযজ্ঞের আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মালদা উত্তর ও দক্ষিণ, বালুরঘাট, জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের মানুষ। আর তার সাথে ঐ পাঁচটি কেন্দ্রের বিভিন্ন কাজের দায়িত্বে থাকা ভোট কর্মী থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। যদিও এর আগের দু-দফা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আওতাধীন নয় এমন বুথ গুলিতে যে গন্ডগোল ও ভোট কারচুপির ঘটনা ঘটেছে সে গুলি মাথায় রেখে আগে থেকেই প্রস্তুত হতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।

বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সাধারণ মানুষ যে ভোট কেন্দ্রের সামনে যেতে পারেনি, দিতে পারেনি তাদের ভোট বা দিতে গিয়ে জানতে পারে তার ভোট হয়ে গেছে। নতুবা বুথ দখল করে বোম ও বন্দুক দেখিয়ে যেভাবে ভোট করে আজ শাসক দল স্বমহিমায় বিরাজ করছে তাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। আর তারই জবাব দিতে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের ডোমকলের মানুষ একত্রিত হয়েছে বামফ্রন্টের কর্মী-সমর্থকদের সহযোগিতায়। সাধারণ মানুষ আজ একত্রিত হয়ে বলছে এই লোকসভা নির্বাচন হবে কিন্তু এবারের ছবিটা হবে অন্য রকম। কোন বহিরাগত তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী, বন্দুকধারীরা দখল করবে না, করবে সাধারণ মানুষের যারা গত পঞ্চায়েত ও পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি ।

এদিন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ জন লাল ঝাণ্ডার নীচে দাঁড়িয়ে ডোমকল থানার সামনে থেকে শুরু করেছে মিছিল। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই মিছিলে পা মেলায় বহু মানুষ । আর এই মিছিল দেখে কিছুটা হলেও চিন্তায় পড়ে গেছে শাসক দলের কর্মী-সমর্থকরা । মিছিলের পুরোভাগে হাঁটছিলেন মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সংসদ প্রার্থী বদরুদ্দোজা খান, রাজ্য বিধানসভার নেতা সুজন চক্রবর্তী, পার্টি নেতা আনিসুর রহমান সহ  বিভিন্ন কর্মী সমর্থক।

২০০৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০১৬-র বিধানসভা ভোেট বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন। এছাড়াও ২০১৭ পৌরভোটে যে নজির দেখিয়েছে তা আজও স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়নি ডোমকলের মানুষের।

পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় কিভাবে শাসক দলের কর্মীরা ভোট করেছিলেন । ডোমকলের গ্রামাঞ্চলে শাসক দল, তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরতে বসেছে। যেটুকু আছে তাতে পৌর এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। এখন তৃণমূলের এমন অবস্থা যে ভোটের প্রাক্কালে দলবদল এর ছক কষছে অনেকেই। এদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এতটাই বেড়ে গেছে যে তৃণমূল পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমিক হোসেনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে মিছিলে পা মিলিয়েছেন বহু তৃণমূল কর্মী। তাদের অন্দরে দুর্নীতি নিয়ে ঝামেলা লেগেই রয়েছে। ডোমকল পৌর এলাকার বেশকিছু তৃণমূল কর্মীর সম্পত্তি রাতারাতি এত বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ আজ বুঝতে পেরেছে উন্নয়নের দায়িত্ব আজ কাদের হাতে। গরিব মানুষের ঘর তৈরি করে দেবে বলে তাদের কাছ থেকে তুলেছে টাকা ।তৃণমূল কর্মীরা এছাড়াও সরকারি প্রকল্পের কাজের ফাইল তৈরি করে টেন্ডার না করেই টাকা পকেটে তুলে নিয়েছে শাসকদলের বহু কর্মী।

মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় তুলনামূলক মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক বেশি, আর এই এলাকাতেই খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ কৃষক ও অশিক্ষিত মানুষকে বোকা বানিয়ে কিভাবে তাদের শোষণ করা যায় তা বিগত আট বছরে তৃণমূল দেখিয়ে দিয়েছে।তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ইমারত তৈরিতে কতটা সাধারণ মানুষের রক্ত লেগে আছে তা আজ বুঝতে পারছে ডোমকলের মানুষ। তাই তারা নিজেরাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফিরে পাওয়ার আশায় নির্ভরযোগ্য লাল ছাতার তলায় আসতে শুরু করেছেন। আর বিদ্রোহী মনোভাব নিয়ে নিজের ভোট নিজে দেওয়ার পরিকল্পনায় বদ্ধপরিকর হয়েছেন বহু মানুষ।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+