রাজ্য লোকসভা নির্বাচনের শুরু থেকেই ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে সরব হয়েছিলেন ভোট কর্মী থেকে শুরু করে বিরোধী সংগঠনের মানুষজন। সেই প্রথম দফা নির্বাচন থেকে শুরু করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা নির্বাচনে একই দাবির বিক্ষোভে মেতেছিল প্রায় সকল স্তরের মানুষ। কিন্তু পুরোপুরি নিরাপত্তার আশ্বাস ও ভরসা দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। ফলে ঘটে গেছে অনেকগুলি বিক্ষিপ্ত ঘটনা, পাশাপাশি শাসকদলের প্ররোচনায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে গেছে তৃতীয় দফা নির্বাচনে।
আগামী ২৯ শে এপ্রিল শুরু হতে চলেছে চতুর্থ দফার নির্বাচন। যে ৮ টি কেন্দ্রে এদিন নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল বহরমপুর ও বীরভূম কারণ এই দুই কেন্দ্রের যারা মাথা বলে নিজেদের মনে করেন তাদের প্রকাশ হওয়ার চেহারাটা রাজ্য বাসীর কাছে এক ভয়ঙ্কর রূপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করেন বিরোধী সংগঠনগুলি। তারমধ্যে বহরমপুরের রবিনহুড নামে পরিচিত কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। আর অপরদিকে বীরভূমের লৌহ মানব নামে পরিচিত অনুব্রত মণ্ডল, ওরফে ‘কেষ্টদার’ উন্নয়নের সন্ত্রাসে আজ অতিষ্ঠ বীরভূমের আপামর সাধারণ মানুষ।
বীরভূমে তৃণমূলর কর্মী সংগঠনকে উজ্জীবিত করতে প্রায়শয় বিতর্কিত মন্তব্য শুনতে পাওয়া যায় এই জেলা নেতার মুখ থেকে। আর আবারও চতুর্থ দফা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের এই বিতর্কিত নেতার উক্তি শোনা গেল। তিনি বলেন কেন্দ্রীয় বাহিনী কে গ্রেফতার করতে হবে যদি তারা বিজেপিকে ভোট দিতে বলে। এদিন বীরভূমের তারাপীঠ দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিতে গিয়ে একথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি আরো বলেন যদি এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটে দলের কর্মীরা যেন তৎক্ষণাৎ সেই বুথে ভোট বন্ধ করে দেয় এবং কোন সংবাদ মাধ্যমের কর্মী যদি কারো সঙ্গে কথা বলে তাহলে তাকে বাইরে বার করে দেওয়ার নির্দেশ দেন কর্মীদের। কারণ তারা ছবি তুলতে পারে কিন্তু কোন প্রশ্ন করতে পারে না সাধারণ মানুষকে এ কথা জানিয়ে দিতে বললেন প্রিজাইডিং অফিসারদের দলের কর্মীদের। তাহলে এখান থেকেই বোঝা যাচ্ছে বীরভূমের নির্বাচন প্রক্রিয়ার কার হাতে রয়েছে। তার নির্দেশেই শাসক দলের কর্মীরা এখানে নির্বাচন কমিশনের কোন গুরুত্ব না দিয়ে তিনি যে আদেশ দিচ্ছেন তা পালন করতে বলেন।
এছাড়া ওই দিন পুরনো স্মৃতিকে জাগরিত করতে ও সাধারণ মানুষকে নির্বাচনের আগে ভয় দেখাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিছিল করার অভিযোগ উঠল শাসক দলের উপর। বুধবার বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শতাব্দি রায়ের সমর্থনে সাঁইথিয়া ব্লক এর বেশ কিছু অঞ্চলে দেখা গেল হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিছিল করছেন শাসক দলের কর্মীরা। প্রকাশ্য রাস্তায় আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে বাইক মিছিল এর পরিপ্রেক্ষিতে বীরভূম জেলার সিপিআই (এম) জেলা সম্পাদক মনসা হাঁসদা বলেন, এ আর নতুন কথা কি! এ তো তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে। মানুষকে ভয় দেখাতে এর আগেও পঞ্চায়েত ও বিধানসভা নির্বাচনে একই ভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন শাসক দলের কর্মীরা। তিনি পাশাপাশি একথাও বলেন বারবার অস্ত্র ব্যবহার করলে অস্ত্র ভোঁতা হয়ে যায়, আর ভোঁতা অস্ত্রে কেউ ভয় পাই না।
আর সেই কারণেই হয়তো নির্বাচন কমিশন বীরভূম, বোলপুর ও বহরমপুর এর ক্ষেত্রে ১০০% কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর বাকি পাঁচটি কেন্দ্রে ৯৭% কেন্দ্রীয় বাহিনীর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার বিষয় এই যে, কি হবে নির্বাচন ও তার আগের দিন গুলিতে, তাই নিয়ে চিন্তায় বীরভূমের আপামর সাধারণ মানুষ।