তৃণমূল ও বিজেপি যৌথ উদ্যোগে বামফ্রন্টের শেষ দেখতে চান

CPI(M)
(Photo: Twitter/@cpimspeak)

দেশজুড়ে মোদী ঝড় ও রাজ্য জুড়ে দিদি ঝড়— যে ভাবে মিলিত হয়ে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ যদি এই মুহূর্তে কোন ব্যবস্থা না নেন তাহলে হয়তো খুব শীঘ্রই বড় ধরনের কোনো মারাত্মক কালবৈশাখীর শিকার হতে হবে।

দিদি ও মোদীর যৌথ প্রয়াসে যেভাবে সাধারণ মানুষ অবহেলিত, লাঞ্ছিত ও দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন, স্বাভাবিক দৃষ্টিতে চোখে না পড়লেও ভালো করে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে এই দুই দল কি করতে চাইছে । যতই তারা লোক দেখানো প্রতিবাদ আন্দোলন, দলাদলি করুক না কেন, একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজে মদত দিচ্ছেন। তাহলে কি রাজ্যে বামফ্রন্টের অর্জিত শক্তি ও জনসমর্থন কে পুরোপুরি নির্মূল করতে  এই পদক্ষেপ দুই দল নিয়ে থাকেন তাহলে ভুল করছেন বলে মনে করেন বামফ্রন্টের বরিষ্ঠ নেতৃত্ব।

তারা বলেন সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছেন যে পরিবর্তন পরিবর্তন করে যে ভুল তারা করেছেন, তার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। বেশ কিছু ঘটনা লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে তৃণমূল সরকারকে কিভাবে বিজেপি একের পর এক মদত দিয়ে চলেছে।

বিগত পাঁচ বছর আগে নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গে চিট ফান্ড এর যথাযথ তদন্ত করবেন কাউকে রেহাই দেবেন না। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল শ্রীরামপুর লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে এ কথা বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদী।

তিনি যে যথাযথ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বিশেষ এগোয়নি। কারণ সারদা-রোজভ্যালি-নারদা তদন্তের তৃণমূল কংগ্রেসের যে নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তারা সবাই এখন বাইরে। অন্যদিকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন যে গত ৫ বছর ধরে তৃণমূলের ভাঙা নৌকা মেরামত করে চলেছে বিজেপি। তিনি আরো বলেন প্রধানমন্ত্রী যদি জানেন তৃণমূল সরকার দাগীদের সরকার তাহলে তৃণমূলকে ঠেকাতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি কেন?

কলকাতার মিছিলে এসে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে গরীবের টাকা লুট করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন কিন্তু তিনি তো দেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি কেন কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলেন না?

বিগত পাঁচ বছর ধরে একশো দিনের প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা লুট করেছেন তৃণমূল সরকারের নেতাকর্মীরা তা জেনেও রাজ্যে বিজেপি একটি স্মারকলিপিও দেয়নি কেন্দ্রে। ঢালাও টাকা পাঠিয়েছে রাজ্যকে প্রথম দফা নির্বাচন শুরুর মুখে পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র রাজ্যে সর্বাধিক টাকা পেল ।১০০ দিনের প্রকল্পে এর যাবতীয় বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার জন্য মাত্র দু’দিনের মধ্যে ২,৮৪৭ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা নির্বাচনের আগে মিটিয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দিল রাজ্য সরকারকে মোদী সরকার।

এর আগেও ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ঢেলে টাকা পাঠিয়েছিল মোদীর কেন্দ্রীয় সরকার। এবারের টাকা বরাদ্দের চিঠিতে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে মোটা অংকের টাকা পাঠানোর পাশাপাশি, রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে গত বছরের বকেয়া মজুরির টাকা আগে মিটিয়ে ফেলতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ প্রশমনে এ ধরনের আন্তরিক উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু মনে করেন বিজেপি তৃণমূলের কোন নৈতিক ফারাক নেই, তিনি বলেন বিজেপিকে এরাজ্যে হাত ধরে ডেকে এনেছে তৃণমূল। কয়েক বছরের পুরনো ও বর্তমান ইতিহাস খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে যে বামফ্রন্টকে কোণঠাসা করতে তৃণমূল ও বিজেপি যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছেন, অথচ বিরোধীদের সমর্থনে এগিয়ে আসছে সাধারণ মানুষ।

তৃণমূল দুষ্কৃতীদের অত্যাচারে  আহত লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী আসানসোল ও ডায়মন্ড হারবারে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তাতে বামফ্রন্টের পালে নতুন করে হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। তাদের সমর্থনে বহু মানুষ এগিয়ে আসছে।

গত রবিবার আর এস এস এর সদর দপ্তর  কেশব ভবনে বিজেপির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকের নির্দেশ দেন আরএসএস নেতৃত্ব আর সেই নির্দেশের পরেই এক তৃণমূল নেতার সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতার বৈঠক হয়েছে বলে জানা যায়। এইভাবেই পশ্চিমবঙ্গের বুক থেকে তৃণমূল ও বিজেপি যৌথ উদ্যোগে বামফ্রন্টের কর্মী সমর্থকদের উপর অত্যাচার চালিয়ে পুনরায় তৃণমূল সরকার তাদের শোষণ নীতি কায়েম রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ আজ আতঙ্কিত, ভীত, শঙ্কিত হয়ে বামফ্রন্ট সমর্থিত লোকজনদের পাশে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন। তাই বামফ্রন্ট প্রার্থী সমর্থকদের মিটিং মিছিলে লোকজনের সমাবেশ এখন চোখে পড়ার মতো।

अब आप न्यूज़ सेंट्रल 24x7 को हिंदी में पढ़ सकते हैं।यहाँ क्लिक करें
+