আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি দিন। দ্বিতীয় দফায় ১৮ই এপ্রিল ভোট হবে তিনটি কেন্দ্রে–জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও রায়গঞ্জ। এদের মধ্যে অন্যতম বৈচিত্র্যময় জেলা হলো দার্জিলিং।
দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি জেলার সমন্বয়। যার মধ্যে কালিংপঙ নতুন সংযোজন। প্রকৃতি ও আবহাওয়া দিক থেকে সমতলের সঙ্গে পাহাড়ের বৈচিত্র্যের তারতম্য লক্ষ্য করা গেলেও, দুদিকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা একই রকম। বরং বলা যেতে পারে প্রকৃতিগত ভাবে পাহাড়ের আবহাওয়া ঠান্ডা হলেও রাজনৈতিক দিক থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ‘পাহাড় উত্তপ্ত‘ এ কথা শোনা যায়। সমতলের সঙ্গে পাহাড়ের যে যে বিষয়ের উপর খোব,তা হল বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের কোন সুযোগ–সুবিধা দিতে পারেননি বর্তমান সরকার।
নতুন কলকারখানা তো দুরের কথা, বেশ কিছু চা বাগান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন বহু চা বাগানে নিযুক্ত শ্রমিক, অনাহারে থাকতে হচ্ছে তাদের পরিবারের সদস্যদের। গত পাঁচ বছরের বিজেপির সাংসদ ও আট বছরের তৃণমূল সরকারের অধীনে থাকা পাহাড়ের আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে যে কি ভাবে ভুল বুঝিয়ে রাজনীতির শিকার করেছেন তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করছেন এ বারের দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্টের সিপিআই (এম) প্রার্থী সমন পাঠক। দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বেকার শিক্ষিত যুবকদের উপযুক্ত কাজের দাবিতে ও ধুঁকতে থাকা চা শিল্পের উপযুক্ত ব্যবস্থার দাবি তুলে প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পাহাড়ের বুকে শোনা যাচ্ছে শুধু একটাই নাম, সমন পাঠক।
তত্কালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে শিল্পের সম্ভাবনাময় পরিবেশ তৈরি হয়েছিল দার্জিলিং জেলায়। বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন তখনকার বামফ্রন্টের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য মহাশয়। মাটিগাড়াই পরিবহন নগরী, টি পার্ক, ড্রাই পোর্ট, ফুড পার্ক,বিস্কুট তৈরির কারখানা এ সব ঘিরে বহু ছেলে মেয়ে উভয়ের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা গড়ে উঠে ছিলো। কিন্তু তার আর ব্যস্তবায়িত হয়ে ওঠে নি।
শালবাড়ি, মাটিগাড়া ছাড়াও দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, শিক্ষিত বেকার যুবক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সকলেই এখন একটাই ভাবনা , কাকে ভরসা করে নিয়ে আসবে এবারের লোকসভা নির্বাচনে।